শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ

সত্য সংবাদ, নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন

--°সে লোডিং...
নারায়ণগঞ্জ
শিরোনাম
সপ্তাহে একদিন উপজেলা কার্যালয়ে সরাসরি জনদুর্ভোগ শুনবেন এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে সিদ্ধিরগঞ্জে জামায়াতের আলোচনা সভা নাসিক ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন নির্বাচন: প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ, প্রচারণা শুরু নারায়ণগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও গরু জবাই: 'আসলাম বিরিয়ানি'কে জরিমানা আড়াইহাজারে ২ মাদক ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড অটোরিকশায় সামান্য ধাক্কা: সিদ্ধিরগঞ্জে চালককে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১ সিদ্ধিরগঞ্জে মহাসড়কে বাসে ডাকাতি ও চাঁদাবাজি: ডিবি পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৪ বন্দর মুছাপুরে ব্যানার-ফেস্টুন ছেঁড়ার অভিযোগ: কাঠগড়ায় আশার অনুসারীরা আওয়ামী লীগের আসামি ও সাবেক জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত চান এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারসহ শ্রমিকদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩
ইতিহাস

বড়দিনের অজানা ইতিহাস: ২৫ ডিসেম্বর কি আসলেই যিশুর জন্মদিন? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো রহস্য?

Reporter
নারায়ণগঞ্জ ভয়েস ডেস্কঃ স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ
🕒 বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ৫:১৩ পূর্বাহ্ন • ⏱️ পড়তে সময়: ৪ মিনিট
শেয়ার করুন
বড়দিনের অজানা ইতিহাস: ২৫ ডিসেম্বর কি আসলেই যিশুর জন্মদিন? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো রহস্য?
📷 বড়দিনের অজানা ইতিহাস: ২৫ ডিসেম্বর কি আসলেই যিশুর জন্মদিন? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো রহস্য?। ছবি: নারায়ণগঞ্জ ভয়েস

আজ ২৫ ডিসেম্বর, বিশ্বজুড়ে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব ‘বড়দিন’ বা ‘ক্রিসমাস’ পালিত হচ্ছে। বাহ্যিক আড়ম্বর, ক্রিসমাস ট্রি আর উপহারের ছড়াছড়িতে দিনটি উৎসবমুখর হলেও, এর ইতিহাসের গভীরে রয়েছে এক চমকপ্রদ সত্য। ঐতিহাসিক দলিল এবং ধর্মীয় গ্রন্থ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২৫ ডিসেম্বর যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন হওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। বরং এই দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রাচীন মূর্তিপূজারি বা প্যাগানদের নানান আচার-অনুষ্ঠান।

২৫ ডিসেম্বরের আসল রহস্য: প্যাগান উৎসবের রূপান্তর যিশু খ্রিস্টের জন্মের বহু আগে থেকেই ২৫ ডিসেম্বর বা এই সময়টিতে উৎসব পালিত হতো। প্রাচীনকালে উত্তর গোলার্ধের মানুষ শীতকালে ‘উইন্টার সলিস্টিস’ (Winter Solstice) উদযাপন করত। এটি ছিল সূর্যের পুনর্জাগরণ বা অন্ধকারের পর আলোর ফিরে আসার উৎসব।

  • রোমান উৎসব: রোমানরা তাদের কৃষি ও সময়ের দেবতা ‘স্যাটার্ন’ (Saturn)-এর সম্মানে ১৭ থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘স্যাটার্নালিয়া’ (Saturnalia) উৎসব পালন করত। এই সময়টিতে তারা সব নিয়মকানুন ভেঙে আমোদ-প্রমোদ ও উপহার বিনিময়ে মেতে উঠত।

  • সোল ইনভিক্টাস: ২৫ ডিসেম্বর ছিল রোমানদের সূর্যদেবতা ‘মিত্রা’ (Mithra) বা ‘সোল ইনভিক্টাস’ (অজেয় সূর্য)-এর জন্মদিন। রোমান সৈন্যরা এই দিনটিকে সবচেয়ে পবিত্র দিন মনে করত।

চতুর্থ শতাব্দীতে রোমান চার্চ কৌশলগত কারণে ২৫ ডিসেম্বরকে যিশুর জন্মদিন হিসেবে ঘোষণা করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, মূর্তিপূজারি রোমানদের জনপ্রিয় উৎসবগুলো বাতিল না করে সেগুলোকে খ্রিস্টান ধর্মে আত্তীকরণ করা, যাতে ধর্মান্তর সহজ হয়। অর্থাৎ, উৎসবের তারিখটি পুরনোই থেকে যায়, কেবল দেবতার নাম বদলে যিশু খ্রিস্টের নাম যুক্ত করা হয়।

যিশু কি সত্যিই শীতে জন্মেছিলেন? বাইবেল এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যিশুর জন্ম শীতকালে হওয়া প্রায় অসম্ভব।

  • মেষপালকদের অবস্থান: বাইবেলের লুকের গসপেল অনুযায়ী, যিশুর জন্মের সময় মেষপালকেরা রাতে খোলা আকাশের নিচে ভেড়ার পাল পাহারা দিচ্ছিল। ডিসেম্বরের হাড়কাঁপানো শীতে ফিলিস্তিন অঞ্চলে ভেড়া নিয়ে খোলা মাঠে থাকা অসম্ভব। এটি বসন্ত বা গ্রীষ্মকালের ইঙ্গিত দেয়।

  • কোরআনের ইঙ্গিত: ইসলাম ধর্মেও ঈসা (আ.) বা যিশুর জন্মের বর্ণনা রয়েছে। সূরা মরিয়মে বলা হয়েছে, প্রসব বেদনার সময় তাকে খেজুর গাছের কাণ্ডে নাড়া দিতে বলা হয় যাতে পাকা খেজুর পড়ে। আর মরু অঞ্চলে খেজুর সাধারণত গ্রীষ্মকালেই পাকে।

স্যান্টাক্লজ: সেন্ট নিকোলাস নাকি ‘নর্দার্ন ডেমন’? আধুনিক স্যান্টাক্লজের লাল পোশাক আর উপহার দেওয়ার গল্পের পেছনেও রয়েছে ভিন্ন ইতিহাস। ঐতিহাসিক চরিত্র ‘সেন্ট নিকোলাস’ ছিলেন তুরস্কের একজন বিশপ, যিনি গোপনে দান করতেন। কিন্তু স্যান্টাক্লজের যে রূপটি আজ প্রচলিত, তার সঙ্গে মিল পাওয়া যায় প্রাচীন নর্ডিক ও জার্মানিক লোককথার।

  • প্রাচীন স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় ‘নিক’ বা ‘ওল্ড নিক’ নামে এক চরিত্রের কথা বলা হতো, যাকে বলা হতো ‘ডেমন অব দ্য নর্থ’ বা উত্তরের রাক্ষস। শিশুদের ভয় দেখাতে এর নাম ব্যবহার করা হতো।

  • পরবর্তীতে কোকা-কোলা কোম্পানির বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে স্যান্টাক্লজের বর্তমান নাদুস-নুদুস ও লাল পোশাকের অবয়বটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পায়।

ক্রিসমাস ট্রি: একসময়ের নিষিদ্ধ প্রথা আজ যে ক্রিসমাস ট্রি দেখা যায়, তার উৎসও প্যাগানদের ‘ফার ট্রি’ (Fir Tree) পূজা থেকে। প্রাচীনকালে মানুষ বিশ্বাস করত, চিরসবুজ এই গাছ শীতেও সজীব থাকে এবং এতে জাদুকরী শক্তি আছে। তারা ঘরবাড়ি অশুভ শক্তি থেকে রক্ষা করতে এই গাছ সাজাত। পরবর্তীতে এটি জার্মান খ্রিস্টানদের মাধ্যমে ক্রিসমাসের অংশ হয় এবং রানী ভিক্টোরিয়ার স্বামী প্রিন্স অ্যালবার্টের হাত ধরে ইংল্যান্ড ও সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, ১৬৪৭ সালে ইংল্যান্ডে অলিভার ক্রমওয়েলের নেতৃত্বে পিউরিটানরা ক্রিসমাস উদযাপন নিষিদ্ধ করেছিল, কারণ তারা মনে করত এটি খ্রিস্টধর্মের চেয়ে প্যাগান রীতিনীতির সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত।

উপসংহার ২৫ ডিসেম্বর যিশু খ্রিস্টের প্রকৃত জন্মদিন না হলেও, দিনটি এখন বিশ্বজুড়ে ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও ত্যাগের প্রতীক হিসেবে পালিত হচ্ছে। তবে ইতিহাসের সত্য অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, এই উৎসবের শিকড় প্রোথিত আছে হাজার বছরের পুরনো মানব সভ্যতার ঋতুভিত্তিক ও সাংস্কৃতিক উদযাপনের গভীরে।

Author

নারায়ণগঞ্জ ভয়েস ডেস্কঃ

নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় সংবাদ, উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ বিষয়ক প্রতিবেদনে কাজ করেন।

মন্তব্য করুন