বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ

সত্য সংবাদ, নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন

--°সে লোডিং...
নারায়ণগঞ্জ
শিরোনাম
বন্দর মুছাপুরে ব্যানার-ফেস্টুন ছেঁড়ার অভিযোগ: কাঠগড়ায় আশার অনুসারীরা আওয়ামী লীগের আসামি ও সাবেক জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত চান এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারসহ শ্রমিকদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩ হামলা-হুমকির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এনডিবির সংবাদ সম্মেলন, জড়িতদের শাস্তির দাবি নারায়ণগঞ্জে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক: সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের দিকনির্দেশনা হাজীগঞ্জে 'জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে' অগ্নিসংযোগে ‘জুলাই যোদ্ধা সংসদ’-এর তীব্র প্রতিবাদ ​'সবকিছুর আগে বাংলাদেশ, মতভেদ ভুলে উন্নয়নের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে': রাজীব ​'উন্নয়ন কারো ব্যক্তিগত বিষয় নয়, জনগণের অধিকার': এমপি মান্নান সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলায় মামুন মাহমুদের ক্ষোভ: 'নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে' ফতুল্লায় ১৫১০ পিস ইয়াবাসহ দুই চিহ্নিত মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
মহানগর

সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলায় মামুন মাহমুদের ক্ষোভ: 'নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে'

Reporter
নারায়ণগঞ্জ ভয়েস ডেস্ক স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ
🕒 মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ১০:৫৫ অপরাহ্ন • ⏱️ পড়তে সময়: ৪ মিনিট
শেয়ার করুন
সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলায় মামুন মাহমুদের ক্ষোভ: 'নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে'
📷 সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলায় মামুন মাহমুদের ক্ষোভ: 'নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে'। ছবি: নারায়ণগঞ্জ ভয়েস

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যাতে সঠিকভাবে তাঁদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেন, সে বিষয়ে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। একইসঙ্গে দায়িত্বের প্রতি অবহেলা করা কর্মকর্তাদের ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

​মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত 'পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা উন্নয়ন সংক্রান্ত সমন্বয় সভা'য় তিনি এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

​সভায় উপস্থিত কর্মকর্তা ও বিভাগীয় প্রধানদের উদ্দেশ্যে অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, “আমাদের সবার নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। এখানে পানিসম্পদ অধিদপ্তর, কৃষি বিভাগ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সিভিল সার্জন কার্যালয়সহ অসংখ্য দপ্তর রয়েছে। কিন্তু কাজের বেলায় দায়িত্ব কে নিতে চান? কেউ কি স্বতঃস্ফূর্তভাবে দাঁড়িয়ে বলতে পারলেন না যে, অন্তত তাঁর অফিসের সামনের জায়গাটি তিনি পরিষ্কার রাখবেন?”

​বিভাগীয় প্রধানদের তদারকি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে কিংবা এলজিইডির মতো দপ্তরগুলোর নিজস্ব স্টাফ রয়েছে, যাদের মূল কাজই রাস্তাঘাট পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করা। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ডেকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে—কার কতজন স্টাফ আছে এবং তারা প্রতিদিন কোন কোন এলাকা পরিষ্কার রাখছে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব নিতে হবে।”

​তিনি আরও যোগ করেন, “এভাবে যদি প্রত্যেকে দায়িত্ব এড়িয়ে যান, তবে এ দেশ কোনো দিনই এগোবে না। আমরা যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে ছোট ছোট দায়িত্বগুলো অন্তত পালন করি, তবেই একদিন বড় কোনো মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।”

​শহর ও উপজেলাগুলোর পরিচ্ছন্নতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একদিনেই আমাদের শহরগুলোকে সিঙ্গাপুরের মতো বানিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী হয়তো পাইলট প্রকল্প হিসেবে ছয়জন জেলা প্রশাসককে (ডিসি) ডেকে শহরগুলোকে বসবাসযোগ্য করার বিষয়ে মতবিনিময় করেছেন। কীভাবে ধাপে ধাপে পরিচ্ছন্নতা ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে আমাদের এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু স্কুল শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে কোনো শহর পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়।”

​তিনি জানান, প্রতিটি জেলা শহরে সরকারের অন্তত ৬০টি বিভাগ বা দফতর রয়েছে, পাশাপাশি উপজেলাগুলোতেও একাধিক সরকারি বিভাগ কর্মরত। এসবের পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্ট, স্কাউট, রোভার স্কাউটস ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে কাজে লাগানোর প্রস্তাব দেন তিনি।

​বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে ডাম্পিং স্টেশনের সংকটের কথা তুলে ধরে জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, “আমাদের অধিকাংশ উপজেলাতেই নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন নেই। এগুলো তৈরি করতে পর্যাপ্ত জমি ও অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন, যা একটি দীর্ঘমেয়াদী মহাপরিকল্পনার বিষয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সচেতনতা বাড়াতে স্কুলের শিক্ষক ও স্বেচ্ছাসেবকদের কাজে লাগানো যায়। কোনো বড় পরিকল্পনা ছাড়াই স্কাউট ও স্বেচ্ছাসেবী টিম নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনা পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ শুরু করতে পারে।”

​তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত দেশব্যাপী এক লাখ ভলান্টিয়ার তৈরির প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জেও বিভিন্ন স্কুল-কলেজ থেকে স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করে তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

​জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সমন্বয় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সিফাত উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (নউক) চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীব, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলীনূর খান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, বিকেএমইএ-এর সহসভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল, নাসিকের নগর পরিকল্পনাবিদ মো. মঈনুল ইসলাম এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম ফয়েজ উদ্দিনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

Author

নারায়ণগঞ্জ ভয়েস ডেস্ক

নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় সংবাদ, উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ বিষয়ক প্রতিবেদনে কাজ করেন।

মন্তব্য করুন