বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ

সত্য সংবাদ, নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন

--°সে লোডিং...
নারায়ণগঞ্জ
শিরোনাম
বন্দরে দুই দারোগার বিরুদ্ধে শয্যাশয়ী প্রবাসীকে ফাসানোর অভিযোগ। ওসি না জেনেই সই করার দাবি, তদন্ত চান ভুক্তভোগী পরিবার অগ্রবাণী প্রতিদিনের সম্পাদক ও প্রকাশক হারুন অর রশীদ স্বপন ইন্তেকাল সিদ্ধিরগঞ্জে ফার্নেস অয়েলের গোডাউনে আগুন, আধা ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে শারদীয় দুর্গোৎসবে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে মহিলা পরিষদের শুভেচ্ছা বিনিময় লিংক রোডে সিএনজিকে ধাক্কা দিয়ে ডিভাইডারে উঠল প্রাইভেটকার, আহত -৩ মাদক, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই দমনে ইউএনও-ওসির নেতৃত্বে কমিটি হবে: আইজিপি লোকশিল্প ফাউন্ডেশন ও পানাম নগরী ঘুরে দেখলেন আমেরিকান রাষ্ট্রদূত জ্ঞান অর্জনের জন্য বই পড়ার বিকল্প নেই- আবদুল জব্বার আমলাপড়ায় ছিনতাইয়ের শিকার প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি দিপু নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় দিনের বেলায় গ্যারেজ থেকে গ্যাস সিলিন্ডার চুরি, CCTV ফুটেজে দেখা যায় এক ব্যক্তিকে
national

ইন্দোনেশিয়ার মেয়ে তুতি তুরসিলাওয়াতি

Reporter
Anupam Shaikat Shanto স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ
🕒 • ⏱️ পড়তে সময়: ৪ মিনিট
শেয়ার করুন
ইন্দোনেশিয়ার মেয়ে তুতি তুরসিলাওয়াতি
📷 ইন্দোনেশিয়ার মেয়ে তুতি তুরসিলাওয়াতি। ছবি: নারায়ণগঞ্জ ভয়েস

২০১০ সালের সেই খুনের ঘটনার পরে যখন সৌদি আদালতে তুতি'র বিচারকার্য চলছে, তখনই বস্তুত সৌদি আরবের বাসা বাড়িতে কাজ করতে আসা প্রবাসী গৃহকর্মীদের উপরে ভয়াবহ নির্যাতনের কথা ব্যাপকভাবে সামনে আসে! তুতি জানায়- তার উপরে ঘটা প্রথম থেকে অকথ্য শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের কথা। খুনের ঘটনাটিও বস্তুত প্রচণ্ড যৌন নির্যাতন মুখে আত্মরক্ষার্থেই। তুতি তার মনিবকে খুন করে বাসা থেকে পালিয়ে যায়। অপরিচিত শহরে - কোথায় যাবে, কি করবে- এরকম অবস্থায় কয়েকজন আরব এগিয়ে আসে। সে মক্কায় যাওয়ার জন্যে সহযোগিতা চায়- তারা মক্কায় পৌছে দেবার আশ্বাস দিয়ে, নয়জন আরব পুরুষ মিলে তুতিকে ধর্ষণ করে ফেলে যায়! মক্কায় পৌছানো হয় না! শেষে তায়েফে সৌদি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। বিচার শুরু হয়।

এই নির্মম নির্যাতনের কথা যখন ইন্দোনেশিয়ায় আসে, ব্যাপক গণবিক্ষোভ শুরু হয়। ইন্দোনেশিয়ার অন্য নারী গৃহকর্মীদের নির্যাতনের কথাও প্রকাশ হতে থাকে। ইন্দোনেশিয়ার সরকারও সৌদি আরবকে তুতিকে তাদের হাতে হস্তান্তর করার আহবান জানাতে বাধ্য হয়! একটা সময়ে- ইন্দোনেশিয়া সৌদি আরবে গৃহকর্মী পাঠানো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, সেটা বুঝে সৌদি আরবই আগ বাড়িয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে গৃহকর্মী নিবে না বলে ঘোষণা দেয়! অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়া ও আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও ২০১১ সালে সৌদি আরব আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়ে যায়! এরপরে, আন্দোলন আরো বাড়ে। সেই ২০১১ সাল থেকে ২০১৮ আন্দোলন হয়েছে- তুতির ছবি নিয়ে ডেথ পেনাল্টির বিরুদ্ধে ইন্দোনেশিয়ার জনগণ রাস্তায় নেমেছে, বিক্ষোভ করেছে! তুতি তুরসিলাওয়াতি হয়ে উঠেছে ইন্দোনেশিয়ান জনগণের কাছে খুবই প্রিয় একটা নাম, প্রিয় একজন মানুষ- যে দূর প্রবাসে কনডেম সেলে একা মৃত্যুর দিন গুনছে- যাকে যেভাবেই হোক নিজ দেশে ফিরিয়ে আনতে সবাই একাট্টা। শেষ পর্যন্ত, সৌদি আরবের বর্বরতার কাছে পরাজিত হয়েছে, তুতি'র প্রাণ বাঁচাতে পারেনি; কিন্তু সৌদি আরবে ইন্দোনেশিয়ান গৃহকর্মীদের পাঠানো বন্ধ হয়েছে। ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল, এই সময়কালে শ্রীলংকা নারী গৃহকর্ম পাঠানো বন্ধ করেছে। ফিলিপিন তাদের প্রতিনিধিদল সৌদি পাঠিয়েছিল। প্রতিনিধিদল ফিরে এসে জানিয়েছে, আমরা আমাদের মেয়েদের ধর্ষিত হতে সৌদিতে পাঠাতে পারি না!

তুতির বিচারকে নিয়ে যখন ইন্দোনেশিয়ার সাথে টানাপোড়েন শুরু হলো, ফিলিপিন, শ্রীলংকা থেকেও নারী গৃহকর্মীর যোগান বন্ধ হওয়ার জো- সেই ২০১১ সালেই সৌদি আরব বাংলাদেশ থেকে সেই যোগান সচল রাখতে- বাংলাদেশকে প্রস্তাব দেয়। তার ৪ বছর আগে থেকেই বাংলাদেশ থেকে পুরুষ শ্রমিক নেয়া বন্ধ ছিল! ফলে, আমাদের হাসিনা সরকার- লাফাতে লাফাতে গিয়ে হাজির হয়! ২০১৫ থেকে ব্যাপক হারে নারী শ্রমিক পাঠানো শুরু হয়ে যায়। হাসিনা সরকারের উন্নয়নের গল্পে আরেকটি পালক যুক্ত হয়- সৌদি শ্রমবাজার আবার উন্মুক্ত! নারী গৃহকর্মীদের যোগান বন্ধ হওয়ায় যে সৌদি আরব ছিল চাপের মুখে- বাংলাদেশের অতি উৎসাহ দেখে- তারা সুযোগ বুঝে বলে- বেতন হবে মাসিক ৮০০ রিয়াল (ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিনের নারী শ্রমিকদের বেতন ছিল ১০০০-১২০০ রিয়াল), আমাদের সরকারের প্রতিনিধিরা তাতেই রাজী! এইরকম হাভাতে - বুভুক্ষু - মেরুদণ্ডহীন জাতি যে নারীশ্রমিকদের পাঠাচ্ছে- তাদেরকে "ইচ্ছেমত ব্যবহার" করার সিগনালও বস্তুত তখনই আরব শেখরা পেয়ে যায়!

ফলে, আমাদের নাজমা বেগমরা যখন লাশ হয়ে ফেরে- তখন তার জন্যে বর্বর সৌদি আরবকে গালানোর আগে- একশবার নিজেদেরকে গালান! সৌদি আরব দূতাবাস ঘেরাও এর আগে- হাসিনা সরকাররে ঘেরাও করেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয়রে ঘেরাও করেন! যেই মন্ত্রী- সচিবরা বিভিন্ন সময়ে ফিরে আসা নারীশ্রমিকদের নির্যাতন- নিপীড়ন -যৌন নিপীড়নের অভিযোগগুলোকে "দেশে ফিরার জন্যে বানিয়ে বলছে, বাড়ীয়ে বলছে" বলে উড়িয়ে দিয়েছে, অগ্রাহ্য করেছে, পাশ কাটিয়ে গিয়েছে- তাদেরকে ঘেরাও করেন! তারও আগে যারা রেমিটেন্সের লোভে, রেমিটেন্সের উপরে দাঁড়ানো উন্নয়নের চাকচিক্যে মজে সৌদি ধর্ষক শেখদের কাছে নিজ দেশের নারীকে তুলে দিতে এতটুকু কুন্ঠিত হননাই- যারা আজও "নারী শ্রমিক না পাঠালে পুরুষ শ্রমিককে নিবে না" বা "নারী শ্রমিক ফেরত নিয়ে আসলে- আমাদের পুরুষ শ্রমিকদেরকেও ফেরত পাঠিয়ে দিবে" বলছেন, তাদের নিজেদেরকেই তো ঘেরাও করা দরকার ...

Author

Anupam Shaikat Shanto

নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় সংবাদ, উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ বিষয়ক প্রতিবেদনে কাজ করেন।

মন্তব্য করুন