বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ

সত্য সংবাদ, নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন

--°সে লোডিং...
নারায়ণগঞ্জ
শিরোনাম
নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যক্রম আরো জোরদার করার আহ্বান জামিন পেয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নাসিক সাবেক মেয়র আইভীর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বাফুফের নতুন ফুটবল একাডেমি স্থাপনের উদ্যোগ: মুড়াপাড়া কলেজ মাঠ পরিদর্শন সিদ্ধিরগঞ্জে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ কোন্দলে গুলিবিদ্ধ সন্ত্রাসী সাহেব আলীর মৃত্যু নারায়ণগঞ্জে বিদেশি অস্ত্র ও হেরোইনসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ১৫ মামলার আসামি সোহেল খন্দকার গ্রেফতার নারায়ণগঞ্জে জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে ২০২৬ সালের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসক ও জনবলসংকট: ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণের কাজ চলমান বিদেশি অস্ত্র, গুলি ও হেরোইনসহ ফতুল্লার আলোচিত সোহেল গ্রেপ্তার ফিটনেসবিহীন ও অবৈধ যানবাহন বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ ডিসির তোলারাম কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী ২৮ নভেম্বর, নিবন্ধনের শেষ তারিখ ১০ নভেম্বর ।
সাক্ষাৎকার

বীর মুক্তিযোদ্ধা এহসান কবির রমজানের স্মৃতিচারণ

Reporter
নারায়ণগঞ্জ ভয়েস: মাহমুদ কাওসার স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ
🕒 মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ৩:০৫ অপরাহ্ন • ⏱️ পড়তে সময়: ৩ মিনিট
শেয়ার করুন
বীর মুক্তিযোদ্ধা এহসান কবির রমজানের স্মৃতিচারণ
📷 বীর মুক্তিযোদ্ধা এহসান কবির রমজানের স্মৃতিচারণ। ছবি: নারায়ণগঞ্জ ভয়েস
বীর মুক্তিযোদ্ধা এহসান কবির রমজানের স্মৃতিচারণ

বীর মুক্তিযোদ্ধা এহসান কবির রমজানের স্মৃতিচারণ

নারায়ণগঞ্জ ভয়েস।। মাহমুদ কাওসার 

মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি আজও বুকে ধারণ করে চলেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এহসান কবির রমজান। ১৯৭১ সালে তিনি ছিলেন গোদনাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র। তখন তাঁর বাড়ি ছিল বর্তমান ২নং ঢাকেশ্বরী স্ট্যান্ড এলাকায়। দেশমাতৃকার মুক্তির টানে কৈশোর বয়সেই তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন মহান মুক্তিযুদ্ধে।

মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়েই নিজের বাড়ি থেকে ২০ মণ চাল বিক্রি করেন এহসান কবির রমজান। সেই অর্থ নিয়েই ভারতের প্রশিক্ষণ শিবিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন তিনি। সহযোদ্ধা মতিন ভাই, রোশন আলী, জয়নাল আবেদীন, আলী হোসেন (কমান্ডার) ও খোরশেদ আলমের সঙ্গে নদী পার হয়ে পায়ে হেঁটে কাইকারটেক হয়ে ভারবির রামকৃষ্ণপুরে পৌঁছান। সেখান থেকেই লঞ্চযোগে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা।

যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ১৬ ডিসেম্বর দুপুরে তিনি খবর পান—পাকিস্তানি বাহিনী পালিয়ে যাচ্ছে, দেশ স্বাধীন হয়ে গেছে। প্রথমে এ খবর বিশ্বাসই করতে পারেননি তিনি। এত দ্রুত দেশ স্বাধীন হবে, তা কল্পনাতীত ছিল। তবে নিশ্চিত হওয়ার পর এক দৌড়ে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। স্বাধীন দেশের আলো প্রথম দেখার সেই মুহূর্ত আজও তাঁর স্মৃতিতে অমলিন।

স্বাধীনতার এত বছর পর দাঁড়িয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা এহসান কবির রমজান বাস্তবতা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষায়, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি মনে করেন—দেশ যতটুকু এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, ততটা এগোতে পারেনি। বিশেষ করে দারিদ্র্য বিমোচন, বৈষম্য দূরীকরণ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আমরা এখনও অনেক পিছিয়ে আছি।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল একটি শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়া। সেই স্বপ্ন পূরণে রাষ্ট্র ও সমাজকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

মুক্তিযোদ্ধা এহসান কবির রমজানের এই স্মৃতিচারণ শুধু তাঁর ব্যক্তিগত গল্প নয়, এটি ১৯৭১ সালের অগণিত তরুণের ত্যাগ, সাহস ও স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি—যাদের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ।
Author

নারায়ণগঞ্জ ভয়েস: মাহমুদ কাওসার

নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় সংবাদ, উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ বিষয়ক প্রতিবেদনে কাজ করেন।

মন্তব্য করুন