সাক্ষাৎকার
বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন মোল্লার স্মৃতিচারণ
বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন মোল্লার স্মৃতিচারণ
বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন মোল্লার স্মৃতিচারণ
নারায়ণগঞ্জ ভয়েস// মাহমুদ কাওসার:
মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগে ভেঙে পড়েন বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন মোল্লা। ১৯৭১ সালে তিনি ছিলেন গোদনাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র। দেশের স্বাধীনতার ডাক যখন চারদিকে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, তখন ছাত্রজীবন ও ভবিষ্যতের সব স্বপ্ন এক পাশে রেখে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে।
মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন মোল্লা জানান, তিনি ভারতে গিয়ে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে জীবনবাজি রেখে যুদ্ধের ময়দানে অংশ নেন। যুদ্ধের সময়কার স্মৃতি বলতে গিয়ে তিনি বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সহযোদ্ধাদের ত্যাগ, না খেয়ে দিনের পর দিন যুদ্ধ করার কষ্টের কথা বলতে গিয়ে তাঁর চোখে পানি চলে আসে।
তিনি বলেন, “কত কষ্ট করে, খেয়ে না খেয়ে আমরা যুদ্ধ করেছি দেশ স্বাধীন করার জন্য। কিন্তু সেই স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত দেশের যে অবস্থা, তা আমরা মুক্তিযোদ্ধারা কখনোই কামনা করিনি।”
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন নিয়ে গভীর হতাশার কথাও তুলে ধরেন এই বীর সেনানি। তাঁর মতে, স্বার্থান্বেষী একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে দেশের সর্বনাশ করছে। তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য লুটপাট চালিয়ে দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এর ফলে সমাজে বৈষম্য আরও বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
মহিউদ্দিন মোল্লা বলেন, “আমাদের স্বপ্ন ছিল একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র। জানি না আর কতদিন বাঁচবো, কিংবা সেই বৈষম্যহীন রাষ্ট্র দেখে যেতে পারবো কিনা।” তাঁর কণ্ঠে ছিল দীর্ঘ অপেক্ষা আর অজানা আশঙ্কার সুর।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল ভ্রাতৃত্ববোধ, ন্যায়ভিত্তিক বিচার ব্যবস্থা ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। আজও সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি বলে তিনি মনে করেন। নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে হবে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে এগিয়ে আসতে হবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন মোল্লার এই বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগত বেদনার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি স্বাধীনতার ৫ দশক পরও মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন অপূর্ণ থাকার এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি।