শনিবার, ২৯ অগস্ট ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ

সত্য সংবাদ, নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন

--°সে লোডিং...
নারায়ণগঞ্জ
শিরোনাম
আন্তর্জাতিক পোশাক মেলা: পোল্যান্ডে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে হাতেম নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াতের দায়িত্বশীল শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত ৪৯ বছরের ঐতিহ্য: নবীগঞ্জে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ৫ দিনব্যাপী লঙ্গরখানা ও তবারক বিতরণ নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ‘পুরুষ শ্রমিক যোগাযোগ অভিযান’ শুরুতে প্রস্তুতি বৈঠক ভোটার তালিকায় লিঙ্গ পরিবর্তনের আজব আবেদন! কিংকর্তব্যবিমূঢ় কর্মকর্তা তাসিনুর ৫ সেপ্টেম্বর ৬ দফার দাবিতে লংমার্চ: ডিসি-এসপি। নারায়ণগঞ্জের সাথে ১১ দলীয় নেতাদের সাক্ষাৎ ও স্মারকলিপি প্রদান নারায়ণগঞ্জে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুতের দাবিতে গণসংহতি আন্দোলনের বিক্ষোভ ও সমাবেশ সিদ্ধিরগঞ্জে সামারি ট্রায়ালে ১১ মাদকসেবীর সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা হেফাজতে ইসলামের জেলা ও মহানগরের নতুন কমিটি ফতুল্লায় চাঞ্চল্যকর ডাকাতি: ডিবি পুলিশের জালে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ২ সদস্য, লুণ্ঠিত স্বর্ণ উদ্ধার
সাক্ষাৎকার

সংগ্রাম থেকে হতাশা—এক বীর মুক্তিযোদ্ধার জীবনকথা ও আকুতি

Reporter
নারায়ণগঞ্জ ভয়েস: মাহমুদ কাওসার স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ
🕒 মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ৪:২৯ অপরাহ্ন • ⏱️ পড়তে সময়: ৩ মিনিট
শেয়ার করুন
সংগ্রাম থেকে হতাশা—এক বীর মুক্তিযোদ্ধার জীবনকথা ও আকুতি
📷 সংগ্রাম থেকে হতাশা—এক বীর মুক্তিযোদ্ধার জীবনকথা ও আকুতি। ছবি: নারায়ণগঞ্জ ভয়েস
সংগ্রাম থেকে হতাশা—এক বীর মুক্তিযোদ্ধার জীবনকথা ও আকুতি

নারায়ণগঞ্জ ভয়েস// মাহমুদ কাওসার 


বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন—নামটি শুধু একজন মানুষের নয়, বরং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের এক জীবন্ত ইতিহাস। নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ধনকুন্ডা এলাকার এই বীর সন্তান কৈশোরেই জীবনকে বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন দেশমাতৃকার মুক্তির সংগ্রামে।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আব্দুল মতিন বলেন, একদিন সকালে বাড়িতে কয়লা দিয়ে দাঁত মাজতে মাজতে ধানখেতে ওষুধ দিতে যান। সেদিন আর ঘরে ফেরা হয়নি। কাউকে কিছু না জানিয়ে, পরিবারকে না জানিয়ে তিনি রওনা হন ভারতের আগরতলার উদ্দেশে—মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন এলাকার আরও অনেক তরুণ।

তিনি বলেন, “যাদের নিয়ে গেলাম, পথে পথে শুধু একটা কথাই ভাবতাম—ওদের কারও যদি কিছু হয়ে যায়, তাহলে ওদের পরিবার আমাকে ধরবে। এই ভয়, এই দায়বদ্ধতা নিয়েই আগরতলা পৌঁছাই।”

আগরতলায় কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে শুরু হয় আরেক অধ্যায়। প্রশিক্ষণ শেষ করে আব্দুল মতিনসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা সরাসরি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। অনাহার, অর্ধাহার আর মৃত্যুভয়ের মাঝেও তারা যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন শুধুমাত্র একটি স্বপ্ন নিয়ে—একটি স্বাধীন, শোষণমুক্ত বাংলাদেশ।

“কত দিন না খেয়ে যুদ্ধ করেছি, কত কষ্ট সহ্য করেছি—সেগুলো এখনো চোখের সামনে ভাসে,” বলেন তিনি।

তবে স্বাধীনতার এত বছর পর এসে তাঁর কণ্ঠে এখন গর্বের পাশাপাশি রয়েছে গভীর হতাশা। আব্দুল মতিন বলেন,
“আজ আর ভালো লাগে না। জানি না আর কতদিন বাঁচবো। বেঁচে থাকতে সেই যুদ্ধের চেতনায় গড়া বাংলাদেশ আমরা দেখে যেতে পারবো কিনা, সেটাই বড় প্রশ্ন।”

তাঁর ভাষায়, দেশ সেই পথে এগোয়নি, যে পথে এগোনোর স্বপ্ন তারা দেখেছিলেন। সমাজের সর্বত্র বৈষম্য ও শোষণ এখনো বিদ্যমান। স্বাধীন দেশে ধর্ষণসহ নানা সহিংস অপরাধ তাঁকে মানসিকভাবে ব্যথিত করে।
“এগুলো আর ভালো লাগে না, এগুলো দেখতে চাই না,” বলেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

শেষ বয়সে এসে আব্দুল মতিনের দাবি খুব সাধারণ, কিন্তু গভীর অর্থবহ—ধনী-গরিবের বৈষম্য দূর করতে হবে, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে সততা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে দেশ পরিচালনা করতে হবে।

একজন মুক্তিযোদ্ধার এই জীবনকথা ও আকুতি যেন নতুন প্রজন্মের জন্য প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়—স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ কি আমরা রক্ষা করতে পেরেছি?
Author

নারায়ণগঞ্জ ভয়েস: মাহমুদ কাওসার

নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় সংবাদ, উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ বিষয়ক প্রতিবেদনে কাজ করেন।

মন্তব্য করুন