📅 বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ | Wednesday, 15 July 2026
অনলাইন সংস্করণ
সত্য সংবাদ, নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন
📢 বিজ্ঞাপনের জন্য জায়গা (728px X 90px)
শিরোনাম
• বন্দরে গ্যারেজে ডাকাতি: সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ২০টি ব্যাটারি উদ্ধার, আরও ২ ডাকাত গ্রেপ্তার • রথযাত্রায় বিশৃঙ্খলা রোধে বিএনপির নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার নির্দেশ মামুন মাহমুদের • সিদ্ধিরগঞ্জে অস্ত্র ও মাইক্রোবাসসহ ডাকাত দলের সদস্য গ্রেপ্তার • শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন এনডিএ চেয়ারম্যান রাজীব • শীতলক্ষ্যা পাড়ে চিত্রগ্রহণ: ‘মাস্তুল’ সিনেমার প্রিমিয়ার ১৪ জুলাই • বর্ষীয়ান কমিউনিস্ট নেতা কমরেড রবীন্দ্র দাসের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা • নির্মাণাধীন ভবনের তৃতীয় তলা থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু • বন্দরে মাদ্রাসায় ও বসত বাড়ীতে চুরির মামলায় গ্রেপ্তার-২
সরুন ➔
নারায়ণগঞ্জ ভয়েস 🔍
  1. প্রচ্ছদ
  2. /
  3. সাক্ষাৎকার
সংগ্রাম থেকে হতাশা—এক বীর মুক্তিযোদ্ধার জীবনকথা ও আকুতি
সাক্ষাৎকার

সংগ্রাম থেকে হতাশা—এক বীর মুক্তিযোদ্ধার জীবনকথা ও আকুতি

সংগ্রাম থেকে হতাশা—এক বীর মুক্তিযোদ্ধার জীবনকথা ও আকুতি

নারায়ণগঞ্জ ভয়েস// মাহমুদ কাওসার 


বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন—নামটি শুধু একজন মানুষের নয়, বরং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের এক জীবন্ত ইতিহাস। নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ধনকুন্ডা এলাকার এই বীর সন্তান কৈশোরেই জীবনকে বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন দেশমাতৃকার মুক্তির সংগ্রামে।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আব্দুল মতিন বলেন, একদিন সকালে বাড়িতে কয়লা দিয়ে দাঁত মাজতে মাজতে ধানখেতে ওষুধ দিতে যান। সেদিন আর ঘরে ফেরা হয়নি। কাউকে কিছু না জানিয়ে, পরিবারকে না জানিয়ে তিনি রওনা হন ভারতের আগরতলার উদ্দেশে—মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন এলাকার আরও অনেক তরুণ।

তিনি বলেন, “যাদের নিয়ে গেলাম, পথে পথে শুধু একটা কথাই ভাবতাম—ওদের কারও যদি কিছু হয়ে যায়, তাহলে ওদের পরিবার আমাকে ধরবে। এই ভয়, এই দায়বদ্ধতা নিয়েই আগরতলা পৌঁছাই।”

আগরতলায় কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে শুরু হয় আরেক অধ্যায়। প্রশিক্ষণ শেষ করে আব্দুল মতিনসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা সরাসরি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। অনাহার, অর্ধাহার আর মৃত্যুভয়ের মাঝেও তারা যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন শুধুমাত্র একটি স্বপ্ন নিয়ে—একটি স্বাধীন, শোষণমুক্ত বাংলাদেশ।

“কত দিন না খেয়ে যুদ্ধ করেছি, কত কষ্ট সহ্য করেছি—সেগুলো এখনো চোখের সামনে ভাসে,” বলেন তিনি।

তবে স্বাধীনতার এত বছর পর এসে তাঁর কণ্ঠে এখন গর্বের পাশাপাশি রয়েছে গভীর হতাশা। আব্দুল মতিন বলেন,
“আজ আর ভালো লাগে না। জানি না আর কতদিন বাঁচবো। বেঁচে থাকতে সেই যুদ্ধের চেতনায় গড়া বাংলাদেশ আমরা দেখে যেতে পারবো কিনা, সেটাই বড় প্রশ্ন।”

তাঁর ভাষায়, দেশ সেই পথে এগোয়নি, যে পথে এগোনোর স্বপ্ন তারা দেখেছিলেন। সমাজের সর্বত্র বৈষম্য ও শোষণ এখনো বিদ্যমান। স্বাধীন দেশে ধর্ষণসহ নানা সহিংস অপরাধ তাঁকে মানসিকভাবে ব্যথিত করে।
“এগুলো আর ভালো লাগে না, এগুলো দেখতে চাই না,” বলেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

শেষ বয়সে এসে আব্দুল মতিনের দাবি খুব সাধারণ, কিন্তু গভীর অর্থবহ—ধনী-গরিবের বৈষম্য দূর করতে হবে, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে সততা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে দেশ পরিচালনা করতে হবে।

একজন মুক্তিযোদ্ধার এই জীবনকথা ও আকুতি যেন নতুন প্রজন্মের জন্য প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়—স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ কি আমরা রক্ষা করতে পেরেছি?

আরও পড়ুন

এই বিভাগের আরও কিছু সাম্প্রতিক খবর

বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন মোল্লার স্মৃতিচারণ

বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন মোল্লার স্মৃতিচারণ

মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ৪:৩৯ অপরাহ্ন
বীর মুক্তিযোদ্ধা এহসান কবির রমজানের স্মৃতিচারণ

বীর মুক্তিযোদ্ধা এহসান কবির রমজানের স্মৃতিচারণ

মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ৩:০৫ অপরাহ্ন